গণতন্ত্র হোঁচট ও সংঘর্ষের আশঙ্কা বিশ্লেষকদের
২০১৭

গণতন্ত্র হোঁচট ও সংঘর্ষের আশঙ্কা বিশ্লেষকদের

January 05, 2015     Published Time : 23:56:50

গণতন্ত্র হোঁচট

রাজধানীসহ সারা দেশে ৫ জানুয়ারি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে যে কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা গণতান্ত্রিক ধারা হোঁচট খেতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।

২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তিতে সাবেক প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দিনটাকে ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করছে। দিনটাকে কেন্দ্র করে বিএনপির রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একই দিনে রাজধানীর ১৬টি স্থানে সমাবেশ করে দিনটি উদযাপন করবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে।

৫ জানুয়ারির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছে ঢাকা মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে। তবে শনিবার রাত ১১টা পর্যন্ত ডিএমপির পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পায়নি দলটি। অন্যদিকে শুক্রবার বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দলটির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ যে কোনো মূল্যে ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করা হবে বলে দলের অবস্থান সম্পর্কে গণমাধ্যমে জানান।

এদিকে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম রাজধানীসহ দেশের কোথাও বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ৫ জানুয়ারি রাজধানীর ১৬ স্থানে আওয়ামী লীগের সমাবেশ সফল করা হবে বলেও ঘোষণা এসেছে দলটি পক্ষ থেকে।

দেশের প্রধান দুই দলের অনড় অবস্থান এবং পুলিশ প্রশাসন থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় সংঘর্ষের আশঙ্কা নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের। তারা মনে করছেন, ২০০৬ সালে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গণতন্ত্র হোঁচট খেয়েছে, যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনার উদ্ভব হলে আবারও এমনটি ঘটতে পারে।

এ ব্যাপারে কথা বলা নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দুই দলের যে অনড় অবস্থান তাতে মনে হচ্ছে কেউ কাউকে ছাড় দিবে না। আর গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চায় এটা একটি খারাপ দিক। আমরা বার বার দেখছি, বিরোধী দল বিএনপি কোথাও কোনো সমাবেশের ঘোষণা দিলে সরকার দলের পক্ষ থেকে একই স্থানে সমাবেশের ডাক দেওয়া হচ্ছে। এতে করে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে দুই পক্ষেরই সমাবেশ বন্ধ করে দিচ্ছি। কিন্তু রাজধানীতে ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে দুই দলের ঘোষিত কর্মসূচি পুরোটায় ব্যতিক্রম। এখানে দুটি দলই চাইবে শোডাউন করতে। বিএনপি চাইবে তাদের সমাবেশ সফল হোক আর সরকার দলেরটা ব্যর্থ হোক। অন্যদিকে একই মন-মানসিকতা সরকারী দলেরও। এতে করে এক দল অন্য দলকে বাধা দিতে গিয়ে সংঘর্ষ হওয়ার আশঙ্কাটা বেশি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু দিন আগে বকশিবাজারে একটি সংঘর্ষ দেখেছি। সেখানে বিএনপির চেয়ারপারসন আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন মাত্র। কিন্তু এবার তারা একটি সমাবেশই করতে চায়। একই দিন সরকার দলের সমাবেশ থাকায় কোনো না কোনো স্পটে দুই দলের নেতাকর্মীরা মুখোমুখী হতে পারে। আর সেটা কখনোই শান্তিপূর্ণ হবে না।’

রুহুল আলম বলেন, ‘যদি বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কিছু ঘটে তাহলে এক-এগারোর মতো আবারও গণতন্ত্র হোঁচট খেতে পারে।’

সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি বলছি না যে দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী কিছু করবে। কিন্তু যখন রাষ্ট্রের জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় আর সেখানে যদি সরকারও জড়িত থাকে তখন তৃতীয় কোনো শক্তি রেসকিউ করার চেষ্টা করবে। আর সেটা কখনোই গণতান্ত্রিকপন্থায় হয় না।’

একই ধরনের আশঙ্কা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের। তিনি দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘর্ষ গণতন্ত্রের মসৃণ পথে বাধার সৃষ্টি করে। ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে দুই দলের নেতাকর্মীদের ভাষা ও বড়ি ল্যাঙ্গুয়েজে এটা বলে না যে দুই দলে একই সঙ্গে মাঠে থাকলে তা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখবে। আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা তা বলে না। এখানে প্রশাসনকে অবশ্যই একটি শক্ত অবস্থান নিতে হবে। জননিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয় সে ব্যাপারে তাদের সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে হবে।’

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘৫ জানুয়ারিতে কি ঘটবে তা আমি জানি না। আর এই ঘটনাকে অন্য ঘটনার সঙ্গে তুলনাও করতে চাই না। তবে যদি বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ ঘটে তাহলে তা গণতন্ত্রের জন্য শুভকর হবে না।’
Think Tank Bangladesh 21232-/ 04