ফেসবুক-টুইটারজুড়ে ঈর্ষা-আত্মমিথ্যা!
২০১৭

ফেসবুক-টুইটারজুড়ে ঈর্ষা-আত্মমিথ্যা!

December 30, 2014     Published Time : 03:17:23

ঈর্ষা-আত্মমিথ্যা

প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের এই যুগে নিজেকে প্রকাশের সবচেয়ে সহজ উপায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কবে কোথায় ঘুরলাম, কী কাজ করলাম, জীবনটাকে কী করে উপভোগ করছি, দুঃখ পাচ্ছি- এমন সব কিছুই অনলাইন ব্যবহারকারীরা প্রকাশ করছে ফেসবুক-টুইটারের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কিন্তু তাতে মূল ঘটনার চেয়ে নিজের মনের মাধুরী আর রংচংই বেশি থাকে। ঈর্ষা আর নিজেকে বাড়াবাড়ি মাত্রায় উপস্থাপনের আকাঙ্ক্ষায় মানুষ এমনটা করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেনকারেজ সম্প্রতি যে জরিপটি করেছে তাতে উঠে এসেছে বিচিত্র সব তথ্য। নাম প্রকাশ না করেই এই সাইটে নিজেদের মনের কথা প্রকাশ করতে পারে ব্যবহারকারীরা। পেনকারেজের জরিপে দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ ব্যবহারকারী তাদের ঘটনাগুলো রং চড়িয়ে এবং কখনো কখনো নির্জলা মিথ্যা দিয়ে সাইটে লিখছে। প্রতি ১০ জনে একজন স্বীকার করেছে, তারা স্মৃতি থেকে যেসব তথ্য লিখেছে সেগুলো আসলে এদিক-সেদিক হয়ে গেছে। ১৮-২৪ বছর বয়সীদের ১৬ শতাংশই তাদের স্মৃতির সঙ্গে মনের মাধুরী মিশিয়ে ঘটনাগুলো পোস্ট করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। প্রায় ৫০ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছে, ফেসবুক বা টুইটারে নিজেকে প্রাণবন্ত করে উপস্থাপন করতে না পারলে তারা এক ধরনের দুঃখ, লজ্জা আর বিভ্রমে আক্রান্ত হয়। পেনকারেজের আগের জরিপে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি রংচঙে তথ্য উপস্থাপিত হয় সেগুলো হলো- অমুক দিন অমুক সময় তারা কী করছিল, ছুটির দিন কী করে কেটেছে, সম্পর্কগুলো কেমন ছিল, পেশাজীবনে তারা কতটুকু সফল। এসব বিষয়ে মানুষের মিথ্যাচারের কারণ হলো নিজেকে তারা কোনোভাবেই বিরক্তিকর হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় না। সেই সঙ্গে অন্যের প্রতি ঈর্ষা তো আছেই।

যুক্তরাজ্যের সোসাইটি ফর নিউরোসাইকোঅ্যানালাইসিসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মনোচিকিৎসাবিদ ড. রিচার্ড শেরি জানান, নিজেদের ঘটনাগুলো লিপিবদ্ধ করা এবং অন্যের সঙ্গে তা ভাগাভাগি করে নেওয়াটা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অংশ এবং সেটা উপকারীও। এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগী মনোভাব থাকাটা ইতিবাচক। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ঘটনা প্রকাশের সময় রং চড়ানোর অভ্যাসের কারণে মানুষের ব্যক্তি পরিচয় মারাত্মক অবক্ষয়ের মধ্যে পড়ছে।

অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগকারীদের এ প্রবণতায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন মনোবিজ্ঞানীরা। তাঁদের আশঙ্কা, ঘটনাগুলোকে নিজেদের মতো উপস্থাপনের ফলে মানুষ ভুলে যাচ্ছে আসল ঘটনা। এর ফলে হয়তো জন্ম নিতে পারে 'ডিজিটাল অ্যামনেশিয়া' তথা ডিজিটাল স্মৃতিবিভ্রম।
Think Tank Bangladesh 21232-/ 30