রেহাই পাচ্ছেন না সচিব শওকত!
২০১৭

রেহাই পাচ্ছেন না সচিব শওকত!

January 05, 2015     Published Time : 23:53:50

সচিব শওকত

দায়মুক্তি দিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদনে সুপারিশ করলেও রেহাই পাচ্ছেন না প্রবাসীকল্যাণ সচিব ড. খোন্দকার শওকত হোসেন। ফলে তিন মামলায় নতুন করে তদন্তের বেড়াজালে পড়ছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার হেভিওয়েট এ আসামি।

নামে-বেনামে একাধিক প্লট গ্রহণের অভিযোগে সচিব শওকতের বিরুদ্ধে যে তিনটি মামলা হয়েছিলো, তা তদন্তের জন্য সম্প্রতি দুদকের উপ-পরিচালক জয়নুল আবেদীন শিবলীকে দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন। এর আগে শওকতের প্লট দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করেছিলেন সংস্থাটির উপ-পরিচালক যতন কুমার রায়। তার প্রতিবেদনটি নিয়ে কমিশনে প্রশ্ন ওঠায় নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয় কমিশন।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বাংলানিউজকে বলেন, এর আগে যে কর্মকর্তা (যতন কুমার রায়) প্রতিবেদন দিয়েছেন তাতে কমিশন সন্তুষ্ট নয়। এখন একজন দক্ষ কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দুদকের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা শিগগিরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠাবেন। এছাড়া রাজউকের নথিপত্রও তলব করবে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটি।

রাজউকের উত্তরা, উত্তরা সম্প্রসারিত আবাসিক প্রকল্প এবং পূর্বাচল প্রকল্পে নামে-বেনামে একাধিক প্লট গ্রহণের অভিযোগে সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব (বর্তমানে প্রবাসীকল্যাণ সচিব) ড. খোন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে চলতি বছর ২২ এপ্রিল ৩টি মামলা করে দুদক। মামলাগুলোর তদন্ত করেন দুদকের উপ-পরিচালক যতন কুমার রায়। মামলা পরবর্তী তদন্তে ড. শওকত, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৩০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

যতন কুমার রায়ের প্রতিবেদনটিকে ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য করে দুদকের উচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ড. শওকত সম্পর্কে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এলেও প্রতিবেদনে তার ছিটে-ফোটাও ছিলো না। উল্টো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজউক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তিতে যেসব শর্ত ছিল, খোন্দকার শওকত তার সবগুলোই পূরণ করেছেন। রাজউক এলাকায় নিজ অথবা পোষ্যের নামে প্লট-ফ্ল্যাট থাকলে তিনি আবেদন করতে পারবেন না- মর্মে যে শর্ত ছিল সেটিও এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ, স্বামীর নামে ফ্ল্যাট থাকলে স্ত্রী প্লটের জন্য আবেদন করলে এবং দুজনেরই পৃথক টিআইএন নম্বর থাকলে কী হবে- রাজউকের বিজ্ঞপ্তিতে সেটি স্পষ্ট নয়।

এছাড়াও ‘বিতর্কিত’ এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব শওকত ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজউক প্রকল্পে স্ত্রী ও মায়ের নামে একাধিক প্লট গ্রহণ করেছেন- এ অভিযোগও প্রমাণিত নয়। কারণ, তার চেয়েও ক্ষমতাশালী ১২০ বিশিষ্ট ব্যক্তি একই কায়দায় একাধিক প্লট গ্রহণ করেছেন। ফলে এ প্রেক্ষাপটে অভিযোগ আনতে গেলে আরও অনেককেই ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযুক্ত করতে হবে। ফলে বিচারে মামলার অভিযোগ প্রমাণ করা জটিল হয়ে পড়বে।

প্রতিবেদনটি তদন্ত কর্মকর্তা এভাবে তৈরি করে শওকতকে নির্দোষিতার সার্টিফিকেট দিতে চাইলেও এর আগে মামলায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরা হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনের আগে দুদকের অনুসন্ধান (মামলার আগে) প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নামে-বেনামে তার একাধিক প্লট গ্রহণ, একাধিকবার আকার পরিবর্তন রাজউক বিধি ‘দ্য টাউন ইমপ্রুভমেন্ট অ্যাক্ট-১৯৫৩’ ও ‘দ্য ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (অ্যালোটমেন্ট অব ল্যান্ড) রুলস-১৯৬৯’ পরিপন্থি। রাজধানীর ইন্দিরা রোডে তিনি নিজের মালিকানায় অ্যাপার্টমেন্ট থাকা সত্ত্বেও নিজের নামে উত্তরায় রাজউকের প্লট নিয়েছেন, পরে আকার পরিবর্তন করেছেন।

তার মা জাকিয়া আমজাদের নামে উত্তরা সম্প্রসারিত প্রকল্পে প্লট নিয়েছেন ও পরে আকার বৃদ্ধি করে বিক্রি করেছেন। স্ত্রী আয়েশা খানমের নামে পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নিয়ে দুই দফা আকার বৃদ্ধি করেছেন। যা ১৯৪৭ সনের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা, দণ্ডবিধির ৪৭৭(ক)/১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এসব অভিযোগ দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণীত হওয়ায় দুদক মামলাও দায়ের করেছিলো। এ প্রতিবেদনের আলোকেই এখন তদন্ত করবেন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা।
Think Tank Bangladesh 21232-/ 04