হঠাৎ থেমে গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
২০১৭

হঠাৎ থেমে গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

January 05, 2015     Published Time : 23:53:17

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

রোববার বেলা পৌনে তিনটা। নবীনগর– চন্দ্রা মহাসড়কের গাজীপুরের তেতুইবাড়ি এলাকা। হটাৎ থেমে গেলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ির বহর। সর্তক অবস্থান নিলেন নিরাপত্তায় নিয়োজিতরা। মূহূর্তেই একে একে খুলে গেলো নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গাড়ির দরজা। থেমে থাকা গাড়িতে বসেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডান দিকে তাকিয়ে। ততক্ষণে থেমে গেছে সামনে-পেছনে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গাড়ির সাইরেনের শব্দও। কিছুক্ষণ এভাবে পার হলো। দেখা গেলো হাসিমুখে উৎসুক জনতার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী। করছেন শুভেচ্ছা বিনিময়। চারদিকে তখনও নিরবতা। এরপর আবারও গাড়িগুলো চলতে শুরু করলো। শুরু হলো সাইরেনের শব্দ। সাঁই সাঁই করে এগিয়ে গেলো প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির বহর।

উৎসুক জনতার প্রশ্ন কি দেখলেন প্রধানমন্ত্রী গাড়িতে বসে? তারাও দেখলো প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মেমোরিয়াল কামপুলান পেরুতান জহর (কেপিজে) বিশেষায়িত হাসপাতালের দিকে।

দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানালো ছোটবোন শেখ রেহানাকে নিয়ে গাজীপুরের মৌচাকে ব্যক্তিগত সফরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এত কাছাকাছি এসে মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি এক নজর দেখার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন তিনি।

হাসপাতালে ভেতরে নয় শুধুই বাইরে থেকে এক নজর দেখার ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু তাতেই ভেঙ্গে যায় নিরাপত্তার ছক।

যে পথে প্রধানমন্ত্রী গিয়েছিলেন সেই পথে থাকা নিরাপত্তার সকল আয়োজন দ্রুততার সাথে সরিয়ে নেয়া হলো ভিন্ন পথে।

আর বেশ খানিকটা বাড়তি পথ ঘুরেই প্রধানমন্ত্রী এক ঝলক দেখে গেলেন মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত বিশেষায়িত হাসপাতালটি।

২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর গাজীপুরের তেতুইবাড়িতে এই হাসপাতাল উদ্বোধন হয়। সেদিন ঢাকায় সফররত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব তুন রাজাক ও তার সহধর্মিণী রোসমা বিনতে মনসুরকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্ধোধন করেন এই বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ম্মৃতি ট্রাস্ট ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে (পিপিপি) ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয় এ হাসপাতাল।

মালয়েশিয়ার হাসপাতাল ‘চেইন’র সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত এই প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

মালয়েশিয়ার অন্যতম স্বাস্থ্যসেবা দানকারী বেসরকারি সংস্থা কেপিজে হেলথ কেয়ার বারহাড এই হাসপাতাল পরিচালনা করছে।

কেপিজে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় ২৩টি হাসপাতাল পরিচালনা করছে। এখানে রয়েছে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ও ৫০ আসনের নার্সিং কলেজ।

সেদিন হাসপাতালটির উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ট্রাস্টের সহ-সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানাও।

রোববার দুপুরেও দুই বোনই ছিলেন গাড়িতে। ছোট বোনকে সাথে নিয়েই মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি বাইরে থেকে এক নজর দেখে গেলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে হাসপাতালের মূল ফটকে দেখা গেলো হাসপাতালটির কর্মকর্তা কর্মচারীদের।

মালয়েশীয় নাগরিক ও হাসপাতালটির নার্সিং ডিরেক্টর নরলিজা হাজি কেমিন বাংলানিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা আর শুকরিয়া। তিনি তার মাকে এভাবে স্মরণ করেছেন।

আমরা আরো খুশি হতাম তিনি যদি আমাদের মাঝে উপস্থিত হতে পারতেন। তবে সফরসূচির বাইরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি যেভাবে তার ভালোবাসার প্রকাশ করলেন তা সত্যিই নজিরবিহীন, বলেন নিরলিজা হাজি।

নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বে থাকা গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বাংলানিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি একনজর দেখে যেতে চেয়েছিলেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছি। এতে বেশ ভালো লাগছে।

হাসপাতালটির ব্যবস্থাপক রাকিবুল হাসান বাংলানিউজকে বলেন, আমরা আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি এভাবে দূর থেকেই দেখে গেলেন। আমরা অনুভব করছি প্রধানমন্ত্রীর বুক জুড়ে মায়ের প্রতি কতটা ভালোবাসা।

তিনি বলেন, সফরসূচিতে নেই তারপরও খানিকটা যাত্রাবিরতি করে প্রাকারান্তরে মাকেই শ্রদ্ধা জানিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী।
Think Tank Bangladesh 21232-/ 04