৫ জানুয়ারি নির্বাচন ছিল গণতন্ত্রের জন্য হোঁচট ঃ জি এম কাদের
২০১৭

৫ জানুয়ারি নির্বাচন ছিল গণতন্ত্রের জন্য হোঁচট ঃ জি এম কাদের

January 03, 2015     Published Time : 04:54:30

জি এম কাদের

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদের বলেছেন, গত বছর ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ছিল গণতন্ত্রের জন্য হোঁচট। সামনের দিকে গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারবে কিনা জনমনে সংশয় আছে। জাতীয় পার্টি প্রসঙ্গে দলটির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ছোট ভাই জি এম কাদের বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এ কথা বলেন।

জি এম কাদের বলেন, রাজতন্ত্র দেখেছি, একনায়কতন্ত্র দেখেছি, মিলিটারি শাসন দেখেছি আর তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্যই আমরা ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন করেছিলাম। স্বাধীন দেশের নাম হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। প্রজাতন্ত্র অর্থ জনগণের শাসন। এ জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত করে, আর জনপ্রতিনিধিরাই জনতার পক্ষে দেশ পরিচালনা করেন। কিন্তু বর্তমান নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নিয়ে আছে অভিযোগ, আছে সংশয়। দেশ একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে কিনা জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি বলেন, নির্বাচনে আমরা ভোট দিতে পারিনি। তফসিল শুনেছি আর ফলাফল দেখেছি। অভিযোগ রয়েছে, ফলাফল আগে থেকেই তৈরি করা ছিল। এ নির্বাচনের মাধ্যমে যে জনপ্রতিনিধির সৃষ্টি হয়েছে তারা আদৌ নির্বাচিত কিনা তা নিয়েও দেশ-বিদেশে প্রশ্ন রয়েছে। জি এম কাদের বলেন, সর্বমহল স্বীকৃত বর্তমান সরকার চলছে জবাবদিহিহীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এভাবে সব জায়গায় রাষ্ট্র পরিচালনা হতে থাকলে একনায়কতন্ত্রের সৃষ্টি হয়। আমরা কি সেদিকেই যাচ্ছি? যদি সেদিকেই যাই দেশ গণপ্রজাতন্ত্রী থাকবে না। এক বছরে সরকারের সাফল্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, শুধু ক্ষমতায় থাকাই যদি উদ্দেশ্য হয় তাহলে সরকার সফল। তবে গণতন্ত্র ও অর্থনীতির উন্নয়নের কথা যদি বলে থাকি তাহলে সরকারকে সফল বলব না। তিনি বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচার বাকস্বাধীনতা সভা-সমাবেশের অধিকার ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে। ফলে সরকারের জবাবদিহিতার প্রকট অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশে সুশাসন ও আইনের শাসনের অভাব। দেশি বিনিয়োগ হচ্ছে না। বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় বন্ধ। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। বেকারত্ব বাড়ছে। যুবসমাজে ক্ষোভ, অনিশ্চয়তা, হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজনীতি অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত। নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথ সংকীর্ণ হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর সুদূর পরাহত মনে হচ্ছে। উত্তরণের পথ একটাই- আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনে আবারও আগামী নির্বাচন হলে বিএনপিসহ অন্য দলগুলো নির্বাচনে আসবে কিনা জানতে চাইলে জি এম কাদের বলেন, সব দলের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে অরাজনৈতিক একজনকে প্রধান করে নির্বাচন পরিচালনা করা যেতে পারে বা প্রধানমন্ত্রীকে সরকারপ্রধান রেখে নির্বাচনকালীন সময়ে তার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব ক্ষমতা হ্রাস করে সব দলের সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য মন্ত্রিপরিষদ গঠন করে নির্বাচন পরিচালনা করা যেতে পারে। সরকারপ্রধানের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই পারেন। কিন্তু জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার রাখতে হবে। নইলে গণবিস্ফোরণ ঘটবে। এতে চরমপন্থি সংগঠনগুলো জনসমর্থনের সুযোগ নিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে যা, কারোরই কাম্য নয়।

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে জি এম কাদের বলেন, তাদের নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। গণতন্ত্রে সরকারকে বিরোধীদের প্রতিবাদ শুনতে হবে, মানতে হবে। কিন্তু তা হচ্ছে না। প্রশাসনের সঙ্গে সরকারি দলের লোকজন মিলে নিয়মতান্ত্রিক সমাবেশে বাধা সৃষ্টি করলে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মোকাবিলা করা অসম্ভব। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি যেভাবে চলছে তা ঠিক বলে মনে হয় না। এভাবে চলতে থাকলে বিরোধী দলের শূন্যতার সৃষ্টি হবে। পরবর্তীতে বিরোধী দলের প্লাটফরম কার দখলে থাকবে তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে অস্ত্রকে অস্ত্র দিয়ে মোকাবিলার টেনডেনসি দেখা দেবে। যা কারও জন্য কাম্য নয়। জাতীয় পার্টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনগতভাবে জাতীয় পার্টি 'বিরোধী দল' হওয়াটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমার জানা মতে জাতীয় পার্টি এ পর্যন্ত কোনো বিলে না ভোট দেয়নি। সংসদে কোনো সময়ে 'না ভোট' না দেওয়া কোনো সংসদীয় বিরোধী দল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তা ছাড়া সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় পার্টি বিরোধী দল নয়। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির বেশির ভাগ সংসদ সদস্য সরাসরি আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অথবা আওয়ামী লীগের ওরাই পাস করিয়ে দিয়েছে। যার বদান্যতায় নির্বাচিত তার প্রতিপক্ষ হিসেবে কাজ করা যায় না। বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে না।

মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়া উচিত। সরকার গায়ের জোরে টিকে থাকলে তা সরকার ও জনগণ কারও জন্যই ভালো হবে না। তা না হলে সবসময় অর্থনীতি অস্থিতিশীল থাকবে। দেশ মুখ থুবড়ে পড়বে। মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়ে সে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যেন আসতে পারে সরকারের উচিত সে চেষ্টা করা। তিনি বলেন, দেশে বৈষম্যের রাজনীতি শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ বনাম নন আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ হলেই চাকরি পাবে। এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী। বিএনপির সময়ও এমনটাই হতো। বর্তমানে তা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
Think Tank Bangladesh 21232-/ 03