যুক্তরাষ্ট্রে গোয়েন্দাদের কেলেঙ্কারি
২০১৭

যুক্তরাষ্ট্রে গোয়েন্দাদের কেলেঙ্কারি

January 04, 2015     Published Time : 03:49:14

কেলেঙ্কারি

তারা সাধারণ কোনো গোয়েন্দা নন। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্রের শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। ওবামার নিরাপত্তা যাতে কোনো দিক দিয়ে কোনো অবস্থায়ই বিঘ্নিত না হয় এবং তিনি যেন সবসময় সুরক্ষিত থাকেন সে রকম এক কঠিন দায়িত্বে নিয়োজিত তারা।

কিন্তু ওবামার দায়িত্বে নিয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ এ গোয়েন্দারাই একের পর এক ভুল করে যাচ্ছেন এবং জন্ম দিয়ে চলেছেন অসংখ্য কেলেঙ্কারি। কখনো খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কারো কারোর মদ খেয়ে সবকিছু ভুলে ঘুরে বেড়ানোর ঘটনা ঘটছে। কখনো কখনো সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে অনাহূত লোকজন পৌঁছে যাচ্ছে ওবামার ডিনার টেবিল পর্যন্ত। কখনো পতিতার সাথে ধরা পড়ছে কেউ কেউ।

গোয়েন্দাদের এসব কেলেঙ্কারি এবং ব্যর্থতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ‘মিসস্টেপ আফটার মিসস্টেপ’ নামে। অর্থাৎ একের পর এক ভুল করে চলেছে গোয়েন্দারা। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েক বছর ধরে গোয়েন্দা সংস্থা বেশ গোলমালের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। গোয়েন্দাদের একের পর এক অসদাচরণ, কেলেঙ্কারি এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতাবিষয়ক রিপোর্টে জর্জরিত কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে কোনো কোনো ঘটনা রয়েছে যা বেশ কয়েক বছর আগে ঘটেছে। ওবামার দায়িত্বে নিয়োজিত গোয়েন্দার দশটি কেলেঙ্কারি এখানে তুলে ধরা হলো। ]

নভেম্বর ২৪, ২০০৯

হোয়াইট হাউজ ডিনারে ঢুকে পড়লেন মাইকেল ও তারেক সালাহি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউজে রাষ্ট্রীয় ভোজসভার আয়োজন করা হয়। দু’টি নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট ভেদ করে গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সেখানে ঢুকে পড়েন দু’জন অনাহূত। তারা হলেন রিয়ালিটি টেলিভিশন তারকা মাইকেল এবং তারেক সালাহি। হোয়াইট হাউজ মুখপাত্র রবার্ট গিবস সিএনএনকে বলেন, নিরাপত্তার দুর্বলতার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন। ঘটনার পর গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের কার্যপ্রণালী পর্যালোচনা করা হয়েছে।

এপ্রিল ১৩, ২০১২

পতিতা কেলেঙ্কারি

হোটেলে পতিতাদের সাথে দেনদরবারের সময় একসাথে ধরা পড়ল একডজন গোয়েন্দা। ২০১২ সালে কলম্বিয়া সম্মেলনের যোগ দেয়ার জন্য সেখানে যান প্রেসিডেন্ট ওবামা। তার আশপাশে রয়েছে ডজনকে ডজন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। এ গোয়েন্দাদের একদল হোটেল কারিবে ধরা পড়ে পতিতাদের সাথে দেনদরবারের সময়। এ ঘটনা ওবামার কানে যাওয়ার পর শেষ রাতে তিনি জিমি ফ্যালনকে বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা, আর এই গোয়েন্দাগুলো তো অবিশ্বাস্য রকম কাজকর্ম করে চলেছে। তারা আমাকে নিরাপত্তা দেয়। আমাদের মেয়েদের নিরাপত্তা দেয়। একজোড়া স্টুপিড কী করল বা না করল তা থেকে তাদের বারণ করা ঠিক নয়। তারা কী ভাবছিল আমি জানি না। সে কারণে তারা এখন এখানে আর নেই।

নভেম্বর ১৪, ২০১৩

রাত কাটিয়ে মহিলার রুমে বুলেট রেখে আসল এক গোয়েন্দা

ইগনোস জামোরা ওবামার দায়িত্বে নিয়োজিত গোয়েন্দাদের একজন। হে-অ্যাডামস হোটেলে এক মহিলার সাথে রাত কাটিয়ে সেখানে ভুলে একটি বুলেট রেখে আসেন। পরে সে বুলেট আনার জন্য সেখানে যান এবং জোর করে রুমে ঢোকার চেষ্টা করলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার বিষয়ে তদন্ত করে নারীবিষয়ক আরো কিছু ঘটনার সন্ধান পায় কর্তৃপক্ষ। জামোরি ও টিমোথি নামে আরেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা তাদের এক মহিলা সহকর্মীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে ই-মেইল বার্তা পাঠিয়েছে। তাদের উভয়কে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডিসেম্বর ১১, ২০১৩

স্টেজে ওবামার সাথে ভুয়া সাঙ্কেতিক ভাষা অনুবাদকারী

নেলসন ম্যান্ডেলার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে দক্ষিণ আফ্রিকা যান প্রেসিডেন্ট ওবামা। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে ওবামা যখন সবার উদ্দেশে কথা বলছিলেন তখন স্টেজে তার থেকে মাত্র তিন ফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন সাঙ্কেতিক ভাষা অনুবাদকারী। পরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পেরেছে স্টেজে ওবামার তিন ফুট দূরে দাঁড়িয়ে থাকা সাঙ্কেতিক ভাষা ব্যবহারকারী আসলে একজন ভুয়া ব্যক্তি। তার নাম তারাঙ্গানা জানতেজি। সে আসলে কোনো সাঙ্কেতিক ভাষাই জানে না। সে জাল পরিচয়পত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে পড়েছে। পরে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে।

মার্চ ২৬, ২০১৪

মাতাল গোয়েন্দাদের পাওয়া গেল হোটেলে

ইউরোপিয়ান সামিটে যোগ দেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ওবামা আমস্টারডাম যাবেন। তিনি সেখানে যাওয়ার আগেই তার নিরাপত্তাবিষয়ক গোয়েন্দা সদস্যরা সেখানে পৌঁছে যান। ওবামা সেখানে যাওয়ার এক দিন আগে তিন গোয়েন্দা সারারাত ধরে মদ পান করে মনের আনন্দে যেখানে খুশি ঘুরে বেড়াতে থাকে এবং মাতলামিতে লিপ্ত হয়। একজনকে হলওয়ে অতিক্রম করতে দেখে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

ওবামার দায়িত্বে নিয়োজিত গোয়েন্দা সদস্যদের এভাবে মদ খেয়ে সব ভুলে ঘোরাফেরা করতে দেখে হোটেল কর্তৃপক্ষ সেখানকার মার্কিন দূতাবাসকে অবহিত করে। পরে তাদের নাম বরখাস্তের তালিকায় পাঠানো হয়।

মার্চ ২৭, ২০১৪

মদ খেয়ে দুর্ঘটনার কবলে গোয়েন্দা

অনেক সময় আততায়ীরা গোপন কোনো স্থানে বসে বন্দুক তাক করে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে গুলি করে। অথবা ছোট বা গোপন ছিদ্রপথে বন্দুক তাক করেও গুলি করে হত্যার মিশন বাস্তবায়ন করে। তাদের বলা হয় স্নাইপার।

গোপন স্থান বা ছিদ্রপথ চিহ্নিত করে এ ধরনের হত্যা মিশন ব্যর্থ করার জন্য যেসব গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ নেয় তাদেরকে বলা হয় কাউন্টার স্নাইপার।

ওবামা ফ্লোরিডা ভ্রমণের সময় তার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত দুইজন কাউন্টার স্নাইপার মদ খেয়ে গভীর রাতে গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। তাদের একজন মেথিউর মুখ থেকে গন্ধ বেরোচ্ছিল দুর্ঘটনা থেকে উদ্ধারের সময়। তাদের দুইজনকে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

মে ১০, ২০১৪

অপারেশন মুনলাইট

তখন অপারেশন মুনলাইট চলছে। এরকম সময় হোয়াইট হাউজ এলাকায় দায়িত্বপালনরত শীর্ষ দুইজন গোয়েন্দা সদস্যকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক মার্ক সুলিভান এ কাজ করেন। ঘটনার দিন দুইবার তাদের সেখান থেকে তিনি সরিয়ে নেন তার এক বন্ধুকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য। হোয়াইট হাউজ থেকে প্রত্যাহার করে তাদেরকে তিনি তার সহকারী লিজার বাড়ি মেরিল্যান্ডে পাঠান।

সেপ্টেম্বর ২৭ ২০১৪

হোয়াইট হাউজে গোলাগুলির সময় তালগোলে গোয়েন্দারা

অসকার ওরতেগা ফার্নান্দেজকে কেন্দ্র করে ২০১১ সালে হোয়াইট হাউজ এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে দায়িত্বপালনরত গোয়েন্দা সদস্যরা তালগোল পাকিয়ে ফেলে। গোয়েন্দা সদস্যদের নির্দেশ দেয়া হয় নিচে দাঁড়ানোর জন্য। এমনকি ঘটনা ঘটে যাওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় তারা সেখান থেকে গুলি উদ্ধার করতে সমর্থ হয়; তার আগে নয়।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৪

হোয়াইট হাউজে ঢুকে গেল ফ্রেন্স জাম্পার

গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেড়া টকপিয়ে হোয়াইট হাউজের গ্রিনরুমে ঢুকে পড়েন ওমার গঞ্জালেজ।

তারা সাধারণ কোনো গোয়েন্দা নন। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্রের শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। ওবামার নিরাপত্তা যাতে কোনো দিক দিয়ে কোনো অবস্থায়ই বিঘিœত না হয় এবং তিনি যেন সবসময় সুরক্ষিত থাকেন সে রকম এক কঠিন দায়িত্বে নিয়োজিত তারা। কিন্তু ওবামার দায়িত্বে নিয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ এ গোয়েন্দারাই একের পর এক ভুল করে যাচ্ছেন এবং জন্ম দিয়ে চলেছেন অসংখ্য কেলেঙ্কারি। কখনো খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কারো কারোর মদ খেয়ে সবকিছু ভুলে ঘুরে বেড়ানোর ঘটনা ঘটছে। কখনো কখনো সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে অনাহূত লোকজন পৌঁছে যাচ্ছে ওবামার ডিনার টেবিল পর্যন্ত। কখনো পতিতার সাথে ধরা পড়ছে কেউ কেউ।

গোয়েন্দাদের এসব কেলেঙ্কারি এবং ব্যর্থতা নিয়ে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ‘মিসস্টেপ আফটার মিসস্টেপ’ নামে। অর্থাৎ একের পর এক ভুল করে চলেছে গোয়েন্দারা। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েক বছর ধরে গোয়েন্দা সংস্থা বেশ গোলমালের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। গোয়েন্দাদের একের পর এক অসদাচরণ, কেলেঙ্কারি এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতাবিষয়ক রিপোর্টে জর্জরিত কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে কোনো কোনো ঘটনা রয়েছে যা বেশ কয়েক বছর আগে ঘটেছে। ওবামার দায়িত্বে নিয়োজিত গোয়েন্দার দশটি কেলেঙ্কারি এখানে তুলে ধরা হলো

সেপ্টেম্বর ৩০ ২০১৪

অস্ত্রসহ দাগি আসামি পৌঁছে গেল ওবামার কাছে

১৬ সেপ্টেম্বর ওবামা আটলান্টা সফর করছিলেন। এ সময় একজন নিরাপত্তা কনট্রাক্টর গোয়েন্দাদের ফাঁকি দিয়ে অস্ত্রসহ ওবামার সাথে একই এলিভেটরে চড়ে বসেন। শুধু তাই নয়, এ ব্যক্তি ওবামার সাথে তর্কাতর্কিও শুরু করেন এবং অদ্ভুত আচরণ করতে থাকেন। এ সময় গোয়েন্দাদের নজরে আসেন তিনি। পরে গোয়েন্দারা বিস্মিত হয় এরকম একজন সশস্ত্র ব্যক্তি কী করে ওবামার কাছে পৌঁছে যেতে পারল।
Think Tank Bangladesh 21232-/ 04