৯৩ দেশ থেকে আসে অবৈধ মুদ্রা
২০১৭

৯৩ দেশ থেকে আসে অবৈধ মুদ্রা

January 02, 2015     Published Time : 03:10:18

অবৈধ মুদ্রা

চোরাচালানের মাধ্যমে ৯৩ দেশ থেকে বাংলাদেশে আসে অবৈধ মুদ্রা। গত এক বছরে প্রায় আড়াই শ’ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও ভারত থেকে আসা বেশী অবৈধ মুদ্রা আটক হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

চোরাচালানের মাধ্যমে সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশী অবৈধ মুদ্রা এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটি থেকে ৮১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ সৌদি রিয়াল আটক করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ১০ কোটি ১৮ লাখ টাকা, কাতার থেকে ১০ কোটি টাকা, ভারতীয় রুপি ২৬ কোটি টাকার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, ইউরো সাড়ে ১৪ কোটি টাকা, জার্মান মার্ক ৬ কোটি টাকা, আফগান মুদ্রা ৭ কোটি টাকা, তুরস্ক লিরা ৫৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া বাংলাদেশের সাড়ে ৪ কোটি টাকার মুদ্রাও আটক হয়েছে।

এ ছাড়া আফ্রিকার নাইজেরিয়া, হাইতি, জাম্বিয়া, সুদান, জায়ারের মুদ্রাও আটক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আটক মুদ্রা আমাদের কাছে জমা হয়। এই অর্থ দুইভাবে ব্যবহার হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে মামলা করে। এরপর বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এই অর্থ আমরা ফেরত দিয়ে দিই। আর না হলে এই অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিয়োগ করে।

এই আড়াই শ’ কোটি টাকা কোথায়— এমন প্রশ্নের উত্তরে এই নির্বাহী পরিচালক বলেন, এটি এখন পর্যন্ত আমাদের কোষাগারে রয়েছে। সময় হলে এই অর্থ স্থায়ী বা অস্থায়ী ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা হবে।

গত বছরের তুলনায় চোরাচালানের মাধ্যমে আনীত অর্থের পরিমাণ কেন বেড়েছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে শুভঙ্কর সাহা বলেন, ভারতে স্বর্ণের ব্যবসা রমরমা। বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে রুট হিসেবে ব্যবহার হয়। যার কারণে ভারতীয় রুপি বেশী আটক হয়। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য আমাদের অনেক শ্রমিক রয়েছে। হয়ত এই কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে অর্থ অনেক সময় অবৈধ পন্থায় আনা হয়।

অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, দেশে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা বরাবরই সক্রিয়। অবৈধভাবে আনা অর্থ হুন্ডি কার্যক্রমে ব্যবহার হতে পারে। এটি অর্থনীতির জন্য অশুভ সংকেত। প্রায়ই শোনা যায়, বিমানবন্দরে চোরাপথে আনা স্বর্ণ ধরা পড়ে। অবৈধ অর্থ আটক করার ঘটনা এরই ধারাবাহিকতা। এটি প্রতিরোধে সরকারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সচেতন হতে হবে।
Think Tank Bangladesh 21232-/ 02