মোবাইল রাখবেন ভাই, মোবাইল!
২০১৭

মোবাইল রাখবেন ভাই, মোবাইল!

January 03, 2015     Published Time : 04:58:36

মোবাইল

‘মোবাইল আছে মোবাইল, কারো লাগবে নাকি মোবাইল! নতুন-পুরনো সবই আছে। মোবাইল.. মোবাইল..।’

বাড়ির দরজায় বা বাজারে চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় পাশ থেকে কেউ যদি এমন শব্দ করে তাহলে শুনতে বেশ মজাই লাগবে।

এভাবেই রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়িহাটে মোবাইল ফোন বিক্রি করেন সেলিম। মোবাইল ফোন ‘ফেরিওয়ালা’ সেলিম রেজা। প্রায় দু’বছর ধরে তিনি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। সেলিম রেজার কাছে সবধরণের মোবাইল ফোনই থাকে। নতুন-পুরনো সব রকম ফোন। আছে কম দামের, বেশি দামেরও। যার যেমন চাহিদা খোঁজ নিলেই পেয়ে যান সেলিমের কাছে।

চল্লিশ বছর বয়সী সেলিম রেজার বাড়ি উপজেলার চাঁপাল গ্রামে। প্রতিদিন ভোর হলেই সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। কাপড়ের একটি ব্যাগে করে মোবাইল সেট বিক্রি করেন গ্রামে-গঞ্জে, হাটে-বাজারে। কেউ বিক্রি করলে কিনেনও তিনি। পঞ্চাশ একশ’ টাকা বেশিতে তা আবার বিক্রিও করেন।

সম্প্রতি এক সকালে রাজাবাড়িহাটে মোবাইল ফোন বিক্রি করছিলেন সেলিম রেজা। ব্যাগের ভেতরে ছিল ৩০-৩৫টি মোবাইল ফোন। অধিকাংশই পুরনো চায়না। কয়েকটি স্যামসাং ও নকিয়ার মতো ব্র্যান্ডের। সিম্ফনির কয়েকটি মোবাইল ছিল নতুন। প্যাকেটজাত। এ সময় টিটু নামের স্থানীয় এক মোটর সাইকেল মেকার ৪শ’ টাকা দিয়ে একটি মোবাইল কিনলেন সেলিমের কাছে।

আব্দুল মতিন নামের এক ব্যক্তি বিক্রি করলেন নিজেরটি। এই বেচা-কেনায় দৈনিক ৩শ’ থেকে সাড়ে তিনশ’ টাকা আয় করেন সেলিম রেজা। কোনো রকম সংসার চালানোর মতো আয় হলেই তিনি খুশি।

সেলিম রেজা জানান, তার কাছ থেকে মোবাইল কেনেন প্রায় সব শ্রেণীর মানুষ। যারা নিম্ন বা নিম্ন মধ্যবিত্ত তারা স্বল্প মূল্যে বিভিন্ন চায়না মোবাইল কিনে থাকেন। আর গ্রামে যারা ‘বড়লোক’ হিসেবে পরিচিত তারা কিনেন একটু ভাল ব্র্যান্ডের। তাছাড়া পুরনো ফোন কিনতে যারা ‘ভয়’ পান অথবা ‘আস্থা’ কম তারা কেনেন নতুন ফোন। সেগুলোও থাকে সেলিমের কাছে। তবে বেশি থাকে পুরনো মোবাইল।

এতো পুরনো মোবাইল সেট কোথায় পান? জানতে চাইলে সেলিম রেজা বলেন, রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান থেকে তিনি কম দামে মোবাইল সেট কিনে আনেন। তারপর গ্রামে-গঞ্জে, হাটে বাজারে ফেরি করে বিক্রি করেন। এ সময় অনেকেই আবার তার কাছে মোবাইল বিক্রি করেন। তিনি সেগুলোও কেনেন। কিন্তু পুরনো মোবাইলে তো অনেক সময় ঝুঁকিও থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে কী করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। তবে কেনার সময় সন্দেহ হলে সেগুলো তিনি কেনেন না।

বিবাহিত জীবনে সেলিম রেজা তিন সন্তানের জনক। একমাত্র বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। বড় ছেলে পঞ্চম শ্রেণীতে এবং ছোট ছেলে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াশোনা করে। সেলিম রেজা আগে মাছের ব্যবসা করতেন। ইট ভাটাতেও কাজ করতেন মাঝে মাঝে। এখন তিনি মোবাইল ফোনের ‘ফেরিওয়ালা’।

কয়েক বছর আগে লোকজনকে বলাবলি করতে শোনা যেত, মোবাইল ফোন একদিন ফেরি করে বাজারে বিক্রি হবে। সেলিম কী সেই যুগ প্রণেতাদের একজন?
Think Tank Bangladesh 21232-/ 03