বছরটা যেমন কেটেছে দেশের ক্রিকেটের
২০১৭

বছরটা যেমন কেটেছে দেশের ক্রিকেটের

January 01, 2015     Published Time : 03:25:25

ক্রিকেট

২০১৪ সালকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে (২০১৫) আমন্ত্রণ জানাতে ব্যস্ত সবাই। নতুন বছর নতুন দিন নতুন সময়। সব কিছুই নতুন। পুরাতন ভুলকে শুধরে নতুন বছরে প্রবেশ করাই প্রত্যেকটি মানুষের একান্ত প্রচেষ্টা। সেই কাজটিই করছেন প্রত্যেকে। বছর শেষে লাভ-লোকসানের হিসাব সবাই করে থাকে। বাদ যাচ্ছে না বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনও। দেশের ক্রিকেটের সাফল্য আর ব্যর্থতার গল্প তুলে ধরছে রাইজিংবিডি’র ক্রীড়া বিভাগ।

শ্রীলঙ্কা সিরিজ ২০১৩ সালে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। বছরের শেষ দিকে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইট-ওয়াশ করে বাংলাদেশ। কিন্তু ২০১৪ সালের শুরুটা ছিল বেদনাময়। ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ। এর আগে টেস্ট সিরিজ (১-০) জিতে নেয় সফরকারীরা।

এশিয়া কাপ টানা দ্বিতীয়বারের মতো ২০১৪ সালে এশিয়া কাপের আয়োজকের ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশ। ২০১২ এশিয়া কাপে ভালো পারফরম্যান্স করায় সবাই ধারণা করেছিল দুই বছর পর বাংলাদেশ হারানো গৌরব ফিরে পাবে। কিন্তু হয়নি। এশিয়া কাপের একটি ম্যাচেও জয়ের স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপে অংশ নেওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষেও হারের স্বাদ নেয় মুশফিকুর রহিমের দল।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সফল সহ-আয়োজক বাংলাদেশ ২০১৪ সালে এককভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করে। পুরুষ দলের পাশাপাশি নারী দলেরও আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। স্বাগতিক হয়েও বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল তলানিতে। প্রথম পর্বের বাঁধা টপকালেও দ্বিতীয় রাউন্ডে টাইগারদের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়।

বাংলাদেশে ভারতের সফর বিশ্বকাপের পর ঝটিকা সফরে আসে ভারতীয় ক্রিকেট দল। যদিও প্রথম সারির পরিবর্তে দ্বিতীয় সারির দল পাঠায় বিসিসিআই। তবে দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষেও বাংলাদেশ জয়ের দেখা পায়নি। উপরন্তু বৃষ্টির কারণে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় পড়তে হয়নি লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। ২-০ ব্যবধানে হেরে যায় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর সুখস্মৃতি নিয়ে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে যাত্রা করে মুশফিকুর রহিমের দল। কিন্তু সেই ব্যর্থতার বৃত্তেই বন্দি থাকে টাইগাররা। ওয়েষ্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডেতে নাকানি-চুবানি খাওয়ার পর টেস্ট সিরিজেও হারের স্বাদ নেয় বাংলাদেশ। বছরের শেষ প্রান্তে এসেও জয়ের স্বাদ পায়নি টিম বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ে সিরিজ অবশেষে এলো কাক্সিক্ষত জয়। ২৭ অক্টোবর জিম্বাবুয়েকে মিরপুর টেস্টে হারিয়ে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। এরপর একে একে ৩-০ তে টেস্ট সিরিজ এবং ৫-০ তে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নেয় টাইগাররা। ঘরের মাঠে দুর্বল জিম্বাবুয়েকে পেয়ে আবারও গর্জে উঠে বাংলাদেশ। গত ১ ডিসেম্বর বছরের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। মিরপুরে সফরকারী জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে বিজয়ের নিশান উড়ায় লাল-সুবজের বাংলাদেশ।

পরিসংখ্যানে ২০১৪

২০১৪ সালে ৭ টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছে ৩ টেস্টে। হেরেছে সমান সংখ্যক ম্যাচে আর ড্র হয়েছে এক টেস্ট।

২০১৪ সালে ১৮ ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ১২ পরাজয়ের বিপরীতে জয় পেয়েছে মাত্র ৫ ম্যাচে। ১টি ম্যাচে ফল অমিমাংসিত থাকে।

১০ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ২টিতে জয় ও ৭টিতে হারে বাংলাদেশ। আর ফল হয়নি একটিতে।

২০১৪ সালে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ৭ টেস্টে সর্বোচ্চ ২টি সেঞ্চুরি, ৫টি ফিফটিসহ ৬১৪ রান করেছেন মুমিনুল হক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তামিম ইকবাল ৫২২ ও মুশফিকুর রহিম ৪৩৩ রান করেছেন।

টেস্টে সবচেয়ে বেশি ২৭ উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। এ ছাড়া ৫ টেস্টে ২৫ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

১৮ ওয়ানডেতে ১ সেঞ্চুরি ও ৬ ফিফটিসহ সবচেয়ে বেশি রান করেছেন মুশফিকুর রহিম (৭০৪)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৩১ রান এনামুল হক বিজয়ের।

১২ ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ২১ উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। ১২ ম্যাচে মাশরাফির উইকেট ১১। আর আল-আমিন হোসেন নিয়েছেন ১৭ উইকেট।

১০ টি-টোয়েন্টিতে ২৮৫ রান করে সবার উপরে রয়েছেন এনামুল হক বিজয়। যা ২০১৪ সালের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান।

৯ টি-টোয়েন্টিতে সাকিব আল হাসানের উইকেট ১১। ৮ ম্যাচে আল-আমিন নিয়েছেন ১০ উইকেট ও মাশরাফির ঝুলিতে রয়েছে ৭ উইকেট।
Think Tank Bangladesh 21232-/ 01