২০ কোটি রিয়াল টু-পাইসের ধান্ধা
২০১৭

২০ কোটি রিয়াল টু-পাইসের ধান্ধা

January 04, 2015     Published Time : 03:50:16

এমআরপি

দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিবাসি বাংলাদেশিদের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) তৈরিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষিত হচ্ছে। এ বছরের নভেম্বরে শেষ হচ্ছে হাতে লেখা পাসপোর্টের ব্যবহার। নভেম্বরের পর থেকে অভিবাসিরা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) না পেলে বিশ্বের কোনো বিমান তাদের বহন করবে না। এ নিয়ে সৌদি আরবে কর্মরত ১৫ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসির দিন কাটছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায়।

সৌদি অভিবাসি একাধিক বাংলাদেশি নাগরিক বলেছেন, সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তারাই এমআরপি করার পদ্ধতিকে জটিল করছেন। দূতাবাস এ কাজের জন্য নির্বাচিত আউটসোর্সিং কোম্পানিকে অসহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে দূতাবাস কর্মকর্তারা ১৫ লাখ সৌদি প্রবাসির প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রসেসিং বাবদ অতিরিক্ত ১০০-২০০ রিয়াল হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশের প্রবাসিদের দ্রুত সময়ে এমআরপি দিতে বেসরকারি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান আইরিশ বারহাদকে ডাটা এন্ট্রির কাজ দেওয়া হয়। মালয়েশিয়াতে কাজটি দ্রুত গতিতে চললেও সৌদিতে কাজ এক ধরনের বন্ধই হয়ে যায়। এ নিয়ে দেন-দরবারের পর গত বছরের ৯ নভেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক সভায় এমআরপি মনিটরিং টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, টাস্কফোর্স করেও কোন গতি হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১২ সালের আগষ্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমআরপি নির্ধারিত সময়ে করার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিতে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুমোদন দিয়েছিলো। এবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিবাসিদের এমআরপির উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অ্যাসোসিয়েশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বছরের নভেম্বরের মধ্যে সকল অভিবাসির এমআরপি নিশ্চিত করতে আউটসোর্সিং কোম্পানি নিয়োগ করার সিদ্ধান্তে অনুমতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে অনুযায়ী গত ২১ জুলাই সরকার আইরিশ কর্পোরেশন বারহাদের সঙ্গে অভিবাসিদের এমআরপি প্রদানের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়, আউটসোর্সিং কোম্পানি আবেদনকারীদের দোরগোড়ায় যেয়ে এমআরপি ডাটা এনরোলমেন্ট, ছবি তোলা, আঙ্গুলের ছাপ ও ডিজিটাল স্বাক্ষর সংগ্রহ করবে এবং ছাপানো পাসপোর্ট বিতরণের কাজ করবে।

আর বিদেশি মিশন সমূহে অবস্থিত অফিসার ও সহকারি কর্মচারিরা প্রাশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ এবং আউটসোর্সিং কোম্পানিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবেন। এই নির্দেশনা অনুযায়ী আউটসোর্সিং কোম্পানিটি সৌদি আরবে কাজ করতে শুরু করে এবং পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে একটি আবেদন প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে।

সূত্র মতে, দেশের অর্থনীতি এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সমূহের লোকবল ও এমআরপি এনরোলমেন্টের যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা বিবেচনা করেই সরকারের উচ্চমহল আউটসোর্সিং কোম্পানি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। আউটসোর্সিং কোম্পানি নিয়োগ করা হলে তারা অভিবাসি শ্রমিকদের দোরগোড়ায় যেয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে এবং এমআরপি বিতরণ করবে, যা শ্রমিকদের জন্য বিশেষভাবে সুবিধাজনক হবে। এই চিন্তা করেই আউটসোর্সিং কোম্পানিকে কাজ দেয় সরকার।

গ্রাহকদের অভিযোগ, দূতাবাসের কর্মকর্তারা আউটসোর্সিং কোম্পানিকে অসহযোগিতা করছেন। তারা দূতাবাসের মাধ্যমে এমআরপি নিতে একধরণের বাধ্য করছেন। আর এজন্য এমআরপি আবেদনকারীকে অতিরিক্ত ১০০-২০০ সৌদি রিয়াল ব্যয় করতে হচ্ছে। একজন অভিবাসি বলেছেন, ইতোমধ্যে দূতাবাসের কর্মকর্তারা দালাল চক্র তৈরি করেছেন। এই দালাল চক্রের মাধ্যমে আবেদন না করা হলে এমআরপি ইস্যু করা হয় না। যখন অভিবাসিরা সরাসরি দূতাবাসে যান, তখন কনসাল জেনারেল ও তার অনুসারী লোকজন অভিবাসিদের নিরুৎসাহিত করে বলেন যে, আবেদনপত্রে ভুল আছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। তারা একেকজনের কাছ থেকে ১০০ থেকে ২০০রিয়াল অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন। ১৫ লাখ সৌদি অভিবাসির কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিলে মোট অংক দাঁড়াবে ২০ কোটি রিয়াল।

তবে এ নিয়ে দূতাবাস থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। যা আউটসোর্সিং কোম্পানির নির্ধারিত ফি এর চেয়ে কম। এই কৌশলের অংশ হিসেবে জারিকৃত পরিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, দূতাবাস ও কনস্যুলেট কাউন্টারে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি সাধারণদের জন্য ১৪৫ সৌদি এবং প্রফেশনালদের জন্য ৪৩৫ সৌদি রিয়াল। আইরিশ করপোরেশন বারহাদ কাউন্টারে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি ১৮০ এবং ৪৭০ সৌদি রিয়াল।
Think Tank Bangladesh 21232-/ 04