শিশুপার্কে ভারতীয় সৈন্যদের স্মৃতি স্থাপনার উদ্যোগ
২০১৭

শিশুপার্কে ভারতীয় সৈন্যদের স্মৃতি স্থাপনার উদ্যোগ

January 04, 2015     Published Time : 03:43:43

স্মৃতি স্থাপনা

মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সৈন্যদের স্মৃতি রক্ষার্থে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশ থেকে শিশুপার্ক সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান বিষয়ক এক আলোচনা সভায় এ কথা জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে মুক্তিযুদ্ধে যেসব ভারতীয় সৈন্য নিহত হয়েছেন তাদের স্মরণে এ বছরের মধ্যেই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে

ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ ও এসব স্থান থেকে সব ধরনের স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে এর উদ্বোধন করানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আ ক ম মোজাম্মেল হক অভিযোগ করে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুছে দিতেই ঐতিহাসিক এ স্থানটিতে শিশুপার্ক গড়ে তোলা হয়েছিল। তাই শিশুপার্কটি অন্য কোথাও স্থানান্তর করে ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে এই স্থানটিকে সংরক্ষণ করা হবে।’

তবে শিশুপার্ক কোথায় স্থানান্তর করা হবে এ বিষয়ে মন্ত্রী তার দেওয়া বক্তব্যে স্পষ্ট করেননি।

মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ঐতিহাসিক এসব স্থান সংরক্ষণ করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে যেসব ভারতীয় সৈনিক শহীদ হয়েছেন তাদের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে এ বছরই ঢাকার কোথাও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি পাকিস্তানি দোসর আলবদর, আল-শামস, যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করার জন্য ঘৃণাস্তম্ভও স্থাপন করা হবে।’

মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান ও খন্দকার মোস্তাকদের ভূমিকা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ট্রুথ কমিশন গঠন করার পরিকল্পনার কথাও বলেন মন্ত্রী।

সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জাতীয় নির্বাহী সদস্য তথাগত রায়, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি’র সহ-সভাপতি ডা. সুভাষ সরকার, বিজেপি’র ট্রেনিং ইনচার্জ ধনঞ্জয় কুমার সিং, বিজেপি’র কৃসাণ মোর্চার সভাপতি সাক্ষী গোপাল ঘোষ।

বিজেপি নেতা তথাগত রায় বলেন, ‘বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি। তবে স্বাধীনতার পর সিমলা চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তানি যেসব সেনাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে তা মোটেও ঠিক হয়নি।

বরং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ন্যুরেমবার্গ ট্রায়াল করে নাৎসী বাহিনীর অপকর্মের যেমন বিচার হয়েছিল তাদেরকে সেরকম বিচারের মুখোমুখি করা দরকার ছিল।’

তবে এ বিজেপি নেতা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের প্রসংশা করেন।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইবাইস’র উপাচার্য প্রফেসর ড. আরিফুর রহমান, বেদান্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চের আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ দত্ত, লেখক সাংবাদিক সালাম আজাদ প্রমুখ।
Think Tank Bangladesh 21232-/ 04